রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
“নিউজ মদিনা কন্ঠ” ওয়েব সাইটটি ভিজিট করার জন্য আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
ব্রেকিং নিউজ :
রাজাপুরে জোয়ারের পানিতে তরমুজ ক্ষেত তলিয়ে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে ফল, দিশেহারা চাষীরা। রাজাপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩। রাজাপুরে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তার বসতঘরে হামলার অভিযোগে মামলা, আহত ২। কাঠালিয়ায় অনাবৃষ্টিতে রবিশস্যের ফলন কমার আশঙ্কা,ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র চাষীরা। নলছিটিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১৯জনের জরিমানা। ঈশ্বরগঞ্জে ভ্রাম্যমান মাছ বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন। রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর ইশার স্মারকলিপি। রাজাপুরে নানা বাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু। এবাদত‌ই হোক রমজানের ব্যস্ততা-সফিকুল ইসলাম সালেহী। চান্দিনার কামারখোলা কমিউনিটি কমপ্লেক্স মসজিদের উদ্যোগে রমজানের ইফতার সামগ্রী বিতরন।

শবে-বরা’আতের ফজিলত,মুফতী সফিকুল ইসলাম সালেহী।

islam

মাওঃ মুফতী সফিকুল ইসলাম সালেহী:: আরবি বছরের অষ্টম মাস হলো শাবান৷ এই মাসে এমন একটি রাত্র আছে, যার মর্যাদা সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায় ৷  বরকতময় এই ভাগ্যরজনীর (শবে বরাত) একাধিক নাম রয়েছঃ১৷লাইলাতুল মুবারাকাহ ২৷লাইলাতুন-নিসফে মিন শাবান ৩৷লাইলাতুর রাহমান ৪৷লাইনাতুস – চেক ৫৷লাইলাতুল – জায়িযা ৬৷লাইলাতু ঈদিল মালাইকাহ ৭৷লাইলাতুত – তাকফীর ৮৷লাইনাতুল -ইতকি মিনান্নার ৯৷লাইলাতুশ – শাফায়াহ এবং ১০৷লাইলাতুত- ‌তাযীম৷ পবিত্র কুরআন মাজিদেরও এমনিভাবে ৫৬টি নাম আছে৷

হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, শাবানের চাঁদের পনের তারিখের রাত্রকে শবে বরাত বলা হয়৷ এ রাত্রে জাগ্রত থেকে ইবাদত করলে অসংখ্য নেকী পাওয়া যায়৷ আর কারো করো মতে, এই রাতটি বৈশিষ্টের সাথে সম্পৃক্ত৷যার ভিত্তিতে মহান আল্লাহ বান্দাহদের ফায়সালা করে থাকেন এবং এই রাতে ইবাদতকারী বান্দাহদের সওয়াব ও ফযীলত দিয়ে থাকেন ৷ নবী কারীম স. বলেছেন, যে ব্যক্তি শবে বরাতের রাতে একশত রাকাত নামায পড়বে আল্লাহ পাক তার মাগফিরাতের জন্য একশতজন ফিরিশতা নিয়োজিত করবেন৷ হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রা.নবী কারীম স. থেকে বর্ণনা করেন৷ নবী স. বলেছেন, মহান আল্লাহ শাবানের ১৫তম রাতে বান্দাহদের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং মুশরিক ও পরষ্পর বিদ্বেষকারী ব্যক্তি ব্যতিত সকলকে ক্ষমা করে দেন৷(সহীহ ইবনে হিব্বান খ.৩. পৃ. ৩৮২)৷

ঈমাম আবু হানীফা র. মতে, শাবানের পনেরতম রাতে জেগে থেকে ইবাদত করা মুস্তাহাব৷ কেননা এতে পুরো বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয৷(মারাকিল ফালাহ, খ.,১, পৃ. ১৭৪)৷ কাশশাফুল কিনা মিন মাতনিল ইকনা কিতাবে বলা আছে, হাম্বলী র. মতে, শাবানের পনেরতম রাতে জেগে থেকে ইবাদত করা দু’ঈদের রাতের ইবাদতের অনুরুপ৷

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. মতে, শবে বরাতের রাতে কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব৷(যাওয়ালুস সুন্নাহ, পৃ.১০)৷মুফতী শফী রহ. লিখেছেন, শবে বরাতের কবর যিয়ারত করা সুন্নাত আমলের অন্তর্ভূক্ত৷(শবেবরাত পৃ. ১৫)৷ পাহার পরিমাণ পাপ হলেও আল্লাহ পাক মাফ করে দেন৷ এ রাত্রে আল্লাহ পাক সকলের আগামী এক বৎসরের হায়াত, মওত, রিযিক, দৌলত, ভাল, মন্দ ইত্যাদির বিস্তারিত বাজেট পাশ করেন ৷ এ রাত্রে ৭০ হাজার ফেরেশতা দুনিয়াতে অবতরণ করেন প্রত্যেক ইবাদতকারীর নেকী লেখার জন্য ৷ এ রাত্রে আল্লাহ পাক সমস্ত ইবাদতকারীকে মাফ করে দেন৷

কিন্তু যাদুকরকে, গণককে, কৃপণকে, পিতা-মাতার কষ্ট প্রদানকারীকে, শরাবখোর, নেশাখোর, সুদখোরকে, যিনাকারীকে মাফ করেন না৷ তবে জীবনের তরে আর কোন দিন সে কাজ করবেনা বলে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ পাক ক্ষমা করে দিবেন৷ এই রাত্রে আল্লাহ পাক ডেকে বলেন, হে আমার বান্দারা! আজ আমার নিকট যে গুনাহ মাফ চাইবে আমি তার গুনাহ ক্ষমা করে দিব৷ আর যে আমার কাছে স্বাস্থ্য প্রার্থনা করবে আমি তাকে স্বাস্থ্য দান করব৷ যে আমার কাছে ধনী হবার প্রার্থনা করবে আমি তাকে ধনী বানাব৷ এ রাত্রে ইবাদতের নিয়তে গোসল করলে প্রত্যেক ফোটা পানিতে সাতশত রাকাত নফল নামাযের নেকী লেখা হবে৷ ঐ রাতে ১০০ বার এবং ঐ দিনে ৩০০ বার দরুদ শরীফ পড়লে তার উপর দোযখের আগুন হারাম হবে৷
ঐ রাতে হালুয়া রুটি, তৈরি করার কথা কোন হাদীসে নেই৷ কিছু টাকা -পয়সা গবীব মিসকীনকে দিয়ে দিবেন৷ আলোকসজ্জা ও আতশবাজী পোড়ান তো বেদয়াত৷ ছরাছর হারাম ও মহা পাপ এবং বেহুদা খরচ সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন, ان المبذرين كانوا اخوان الشياطين.(ইন্নাল মুবাযযিরিনা কানু ইখওয়ানাশ শাযাতিন)৷ অর্থঃ বেহুদা খরচকারী শয়তানের ভাই, শয়তানের সাথে একত্র করে তাকে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে৷ (বনী ইসরাইল -২৭)৷

আর চাদের ১৫ তারিখ রোযা রাখলে আল্লাহ পাক বেশুমার নেকী দান করবেন৷ সারা রাত্র ইবাদত আর মোনাজাতে কাটাবে৷ যাদের উমরি কাযা নামায আছে তারা সারা রাত্র উমরি কাযা নামায পড়বেন৷

অতএব, কুরআন, হাদীস, ইজমা, কিয়াসের আলোকে চার মাযহাবের বিশ্বনন্দিত ইমামগনের তারীকা হলো শবে বরা’তের মহাপবিত্র বরকতময় রাতটিকে রাতভর ইবাদত করা৷যারা এই রাতে মসজিদ বন্ধ করে রাখে তারা ইবাদত এবং ইবাদতকারীদের শত্রু ৷ এদেরকে সম্মিলিতভাবে বর্জন করা উচিৎ৷

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের । মদিনা কন্ঠ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এসব মন্তব্যের কোনো মিল নাও থাকতে পারে। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার “মদিনা কন্ঠ‘র কর্তৃপক্ষ ” নেবে না।


close(x)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮ - ২০২১. নিউজ মদিনা কন্ঠ
Design & Developed BY Rahmatullah Palush
You cannot copy content of this page