শনিবার, ১৯ Jun ২০২১, ১১:৫২ অপরাহ্ন

নোটিশ :
দেশ-বিদেশের সকল আপডেট খবর পেতে ভিজিট করুন অনলাইন ভার্সন ‘দৈনিক মদিনা কন্ঠ’ ধন্যবাদ।
ব্রেকিং নিউজ :
বিশ্বনাথে ইভটিজিং করায় যুবককে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। হিজলায় গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল ইসলাম স্বপন চৌধুরী‘র জয়জয়কার। ঈশ্বরগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফিং। বাসায় ফিরেছেন ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান। শাহান আরা বেগম এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মোনাজাত। গলাচিপায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপলক্ষে মতবিনিময় সভা। বিশ্বনাথে প্রবাসীদের নামে চত্বর, অনুদান দিলেন এমপি মোকাব্বির। নলছিটির মগড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিনের জয়জয়কার। মেহেন্দিগঞ্জে কলাগাছ খাওয়ার জেরে দুটি গরু নির্মমভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত করলো মেম্বারের ছেলে। তালতলীতে আগুনে পুড়ে গেল ১২ দোকান।

ইয়াসে নিঃস্ব তালতলীর মাছ চাষিরা। আম্ফানের পর ইয়াস আমায় পথে বসিয়ে দিয়েছে আমি এখন শেষ।

তালতলীর মাছ চাষি

তালতলী (বরগুনা)প্রতিনিধি। ইয়াসের পানিতে মাছ ভেসে গেছে,মাছের সাথে আমিও ভেসে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে আজো বেঁচে আছি- আম্ফানের পর ইয়াস আমায় পথে বসিয়ে দিয়েছে আমি এখন শেষ।কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার খোট্রারচর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রাসেল হাওলাদার। শুধু রাসেল হাওলাদার নয় এমন কান্না এখন অনেক চাষির।

২০১৭ সালে বিএ পাশ করার পর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই এর কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান রিদয়ে মাটি ও মানুষ প্রতিবেদন দেখে। বরগুনার তালতলী উপজেলার আলমগির মিয়ার পুত্র রাসেল মিয়া উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেন।এরপর জমিজমা বিক্রি করে ও ঋণ নিয়ে অন্যর জমি লিচ নিয়ে প্রায় চার একর জমিতে মাছের ঘের ও তার পাশে সবজির বাগান করেন এবং প্রথম বছরে ৫০ হাজার টাকা ও পরে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখেন। কৃষি কাজে নতুন হলেও মোটামুটি সাফল্যের সম্ভাবনাই দেখছিলেন।এরপরই বাঁধ সাধে প্রকৃতি, আম্ফান ও ইয়াসের ছোবলে নিস্ব রাসেল।

কান্নাজনিত কন্ঠে রাসেল মিয়া বলেন, ২০১৭ সালে বি.এ পাশ করার পরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই এর কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান রিদয়ে মাটি ও মানুষ প্রতিবেদন দেখে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করি।এরপর বাবার জমিজমা বিক্রি করে ও ঋণ নিয়ে প্রায় চার একর জমিতে মাছের ঘের ও তার পাশে সবজির বাগান করি এবং প্রথম বছরে ৫০ হাজার টাকা ও ২য় বছরে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখি। এরপর গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারনে আমার প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।আর এবার আরো ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। মাছের সাথে আমিও ভেসে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু সন্তান ও পরিবারের ৭ সদস্যর কথা চিন্তা করে আজো বেঁচে আছি । বেড়িবাধের বাহিরে মাছ চাষ করে আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।

একই অবস্থা অংকুজান পাড়া গ্রামের ইসমাইল প্যাদার।তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ৭.৫০ একর জমিতে মাছের ঘের ছিল তার। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এর কারণে গত বছর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবছর কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ করে মাছের ঘের করেছিল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তার ঘেরের ও সব মাছ ভেসে গেছে। প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মালিপারা ছোটভাইজোড়া এলাকার মাসুম মোল্লা বলেন, অগ্রাণী ব্যাংক তালতলী শাখা থেকে মাছ চাষের জন্য ৯০হাজার টাকা ঝৃণ নিয়ে মাছের চাষ করেছিলাম। কিন্তু হটাৎ করে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে আমার মাছের ঘেরটি তলিয়েছে। এই ঘেরে
৮ প্রজাতির মাছ ছিল এতে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বারোঘড় এলাকার এনায়েত শিকদারের বলেন বিলে মাছের ঘেরে পানি উঠে সব ভেসেগেছে এতে কয়েক লক্ষটাকার ক্ষতিহয়েছে।

জানাগেছে ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পায়রা নদীতে বিপদসীমার উপরে ৬২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী সংলগ্ন এ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়।এতে উপজেলার ৩শ টি মাছের ঘের ও ২ হাজার ৮শ পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। যার কারণে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ঘের থেকে মাছ ভেসে যাওয়ার নিঃস্ব হয়ে গেছে অনেক চাষি।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম জানান,ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের খোজ খবর নিতে উপজেলা মৎস্য বিভাগ কাজ করছে।এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৮২০টি পুকুর ও ১৫০টি ঘের তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারনায় ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয় ক্ষতির হিসেব আরো বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের । মদিনা কন্ঠ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এসব মন্তব্যের কোনো মিল নাও থাকতে পারে। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার “মদিনা কন্ঠ‘র কর্তৃপক্ষ ” নেবে না।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮ - ২০২১. দৈনিক মদিনা কন্ঠ
Design & Developed BY Rahmatullah Palush